» রফতানিতে চামড়াকে ছাড়িয়ে প্রথমবার দ্বিতীয় স্থানে পাট

প্রকাশিত: 22. May. 2020 | Friday

স্টাফ রিপোর্টারঃ রফতানি আয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে পাট খাত। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি করে ৭৯ কোটি ১৩ লাখ ডলার আয় হয়েছে। যা টাকার অংকে ৬ হাজার ৭৬১ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে যা ১৪ শতাংশ বেশি। আর চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাট খাতে বিশেষ করে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানির মাধ্যমে আয় ছিল ৬ হাজার ৪১৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। যা ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়ায় ৭ হাজার ২৯০ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এটি আরো বেড়ে ৭ হাজার ৬৮৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা দাঁড়ায়। অন্যদিকে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৮ হাজার ৯৬ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আয় হয় ৬ হাজার ৭৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রফতানি আয় হয়েছে ৬ হাজার ৭২৬ কোটি টাকার। এই সময়ে মূলত চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রফতানি কমে যাওয়ার কারণে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে আসতে পেরেছে পাট খাত।

সম্প্রতি করোনাভাইরাসজনিত রোগসৃষ্ট কভিড-১৯ এর বিস্তার রোধকল্পে সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটিকালীন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং এর অধীন দপ্তর-সংস্থাগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পাট খাতের এ অর্জনের বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সভায় বস্ত্র ও পাট সচিব লোকমান হোসেন মিয়া সভাপতিত্ব করেন। সভায় দেশের পাট রফতানি খাতের অবদান আরো বাড়ানো এবং উৎপাদন ধরে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। বিশেষ করে করোনাকালীন সংকট মোকাবেলায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ থাকবে বলে জানানো হয়।

এ বিষয়ে লোকমান হোসেন মিয়া বলেন, পাটচাষীদের উদ্বুদ্ধকরণের পাশাপাশি পাট শিল্পের সম্প্রসারণে সব ধরনের সহায়তা করবে সরকার। পাটের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ, পাট ক্রয়-বিক্রয় সহজীকরণের জন্য এসএমএসভিত্তিক পাট ক্রয়-বিক্রয় ব্যবস্থাকরণ, কাঁচা পাট ও বহুমুখী পাটজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিকরণ, পাটজাত পণ্য রফতানিতে প্রণোদনা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধিকরণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

সভায় জানানো হয়, সরকার মানসম্মত পাটের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাটবীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে পাট অধিদপ্তরের আওতায় ‘উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মেয়াদে বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি দেশের ৪৬টি জেলার ২৩০টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পাটচাষের উন্নত কলাকৌশল সম্পর্কে চাষীদের প্রশিক্ষিত করা এবং সার্বিকভাবে গুণগত মানসম্মত পাট ও পাটবীজ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদের ৩৯০ টন পাটবীজ বিনা মূল্যে বিতরণসহ সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।

পাট অধিদপ্তরের তথ্যমতে, পাট খাতের রফতানি আয়ে এখন সবচেয়ে বড় অবদান রাখছে পাটজাত পণ্য। একসময় কাঁচা পাটের অবদান খুব ভালো হলেও ক্রমেই তা অবনতি হচ্ছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক কাঁচা পাটের বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। সেখানে পাটজাত পণ্য বেশ ভালো করছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট উৎপাদন ছিল ৭৫ লাখ ৫ হাজার বেল। যা পরবর্তী অর্থবছরগুলোয় ছিল যথাক্রমে ৮৫ লাখ বেল, ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার, ৯২ লাখ বেল এবং গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৭৩ লাখ ১৫ হাজার বেল।

অন্যদিকে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে কাঁচা পাট রফতানির পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ১ হাজার বেল এবং আয় ছিল ৮১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১১ লাখ ৭৪ হাজার বেল বিক্রি করে আয় ছিল ১ হাজার ৫০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরের ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রফতানি হয়েছিল ১৬ লাখ ৩৯ হাজার বেল। যা থেকে আয় আসে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ১৩ লাখ ৭৯ হাজার বেলের মাধ্যমে ১ হাজার ২৯৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৮ লাখ ২৫ হাজার বেল রফতানিতে আয় ৮৫৯ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭৫ হাজার বেল রফতানি হয়েছে।

এছাড়া ২০১৪-১৫ অর্থবছরে পাটজাত পণ্য থেকে রফতানি আয় ছিল ৫ হাজার ৬০২ কোটি, পরের ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ছিল ৬ হাজার ২৪০ কোটি, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬ হাজার ৪৩০ কোটি ৬০ লাখ টাকা, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৬ হাজার ৮০১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা এবং ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৫ হাজার ২২০ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯ বার

[hupso]