» খোকসায় মোবাইল কোর্টের দণ্ড পরিশোধ করলেন ইউএনও!

প্রকাশিত: 19. May. 2020 | Tuesday

অনির্বাণ ডেস্কঃ কুষ্টিয়ার খোকসার গোপগ্রাম ইউনিয়নের আমলাবাড়ি গ্রামের ইসলাম খান। তিনি ৩৩৩ সহ কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও খোকসার ইউএনও‘র হটলাইন নাম্বারে ত্রাণ সহায়তা চেয়ে ফোন করেন। বিষয়টি আমলে নিয়ে জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় ত্রাণ নিয়ে ইউএনও মৌসুমী জেরীন কান্তা ছুটে যান সেই বাড়িতে।

তার আগে তিনি পূর্বের কোনো সহায়তার আওতায় আছেন কী না- এই বিষয়টি খোঁজ নিতেই চমকে যান ইউএনও মৌসুমী জেরীন কান্তা। ওই সময় তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন শুধু তিনিই নন- তার তিন সন্তানসহ ভাই ও ভাতিজা ১০ টাকা কেজি দরের ওএমএস কার্ড সুবিধাভোগী। শুধু তাই নয়; মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের নগদ প্রণোদনা ২৫০০ টাকা ও ২০ কেজি চাল প্রাপ্তদের তালিকায়ও রয়েছে তার এক ছেলের নাম।

জানা যায়, ইসলাম খানের তিন ছেলে সাহেব আলী (কার্ড নম্বর ৪২৯), আশরাফ আলী (কার্ড নম্বর ৪৩০) মিঠুন খানসহ (কার্ড নম্বর ৪৩৫) ইসলাম খানের সহোদর গোলাম রছুল (কার্ড নম্বর ৪৩১) ও ভাতিজা নাজমুল হোসেন (কার্ড নম্বর ৪৩২) ওএমএসের কার্ডের সুবিধাভোগী।

খোকসায় মোবাইল কোর্টের দণ্ড পরিশোধ করলেন ইউএনও!

ওই পরিবারের সদস্যদের ওএমএস কার্ড

এত এত সরকারি সুবিধা পাওয়ার পরও তারা কেনো ৩৩৩সহ কন্ট্রোল রুমে ফোন দিয়েছেন- ইউএনওর এমন প্রশ্নের কোনোই সুদত্তর দিতে পারেননি তারা।

এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সবুজ বসাকের নেতৃত্বে ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১২ সালের ৩৪ নম্বর আইনে মিথ্যা, অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবির অপরাধে নগদ ৫০০ টাকা আর্থিক দণ্ড দেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা ১১ টায় এ দণ্ড দেন আদালত।

কিন্তু দেশের করোনাকালের এই ক্রান্তিলগ্নে মানবিক সংকট বিবেচনায় সেই আর্থিক দণ্ডের অর্থ নগদে পরিশোধ করেন মোবাইল কোর্টে উপস্থিত থাকা ইউএনও মৌসুমী জেরীন কান্তা।

তিনি বলেন, আমাদের জরিমানা করাই মূখ্য নয়; সচেতনতাই এর মূল উদ্দেশ্য। একই ব্যক্তি সকল সুবিধা নিয়ে ভবিষতে যাতে অন্যকে বঞ্চিত না করতে পারে সেজন্য এ দণ্ড দেওয়া হয়।

ইউএনও কান্তা বলেন, আর একই পরিবারের এত সদস্য কীভাবে এত সুবিধা ভোগ করছে সে ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি করতে হবে।

খোকসায় মোবাইল কোর্টের দণ্ড পরিশোধ করলেন ইউএনও!

মানবিক সংকট বিবেচনায় জরিমানা অর্থ পরিশোধ করছেন ইউএনও কান্তা

আর মানবিক সংকটের এই সময়ে ইউএনও হিসেবে নয় একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমি তার দণ্ড পরিশোধ করেছি মাত্র।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪১ বার

[hupso]