» পার্ক বন্ধ, লোকারণ্য খুলনার ভৈরব পাড়! মানছে না নিষেধাজ্ঞা

প্রকাশিত: 20. March. 2020 | Friday

স্টাফ রিপোটার : করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ও মোকারেলার লক্ষে খুলনা সিটি কর্পোশেন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এছাড়া নগরজুড়ে প্রচারণা চালিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি )। বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) নগরজুড়ে কেএমপির কমিশনার খন্দকার লুৎফুল কবির পিপিএম- এর নির্দেশে এ প্রচারণা চালানো হয়।
যে কারণে পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। এমনকি সুন্দরবনের পর্যটকের প্রবেশে নিশেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সবাইকে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খুলনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওয়াজ মাহফিল বা নামযজ্ঞের ন্যায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সামাজিক অনুষ্ঠানসমূহ করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দূর হওয়ার পর আয়োজনের জন্য সর্বসাধারণকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এত কিছুর পরও কিছু অতি উৎসাহী মানুষ শুক্রবার (২০ মার্চ) ছুটির দিনে পরিবার পরিজন বা বন্ধু বান্ধব নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন খুলনা মহানগরীর কোল ঘেষা ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকায়।
সারাদেশের মানুষ যখন করোনার আতঙ্কে ভীত-সন্তস্ত্র, ঠিক সেই মুহূর্তে সরকারি নির্দেশনা আমলে না নিয়ে হাজারও মানুষ শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ঘাট এলাকায় সময় কাটিয়েছেন।

ছুটির দিন হওয়ায় লোকারণ্য হয়ে গেছে ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নং ঘাট। বিশুদ্ধ বাতাস আর নদীর সৌন্দর্যের টানে ছুটে এসেছেন মানুষ। কেউ এসেছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে, কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে। তাদের কেউ নদীর পাড়ে বসে আড্ডা দিচ্ছেন, কেউবা মগ্ন প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগে, আবার কেউ কেউ ভৈরবের বুকে বেড়ানোর জন্য নৌকায় উঠে পড়েছেন। ভৈরবের পাড়ে তীরে প্রতিরক্ষা ব্লক বসানো, ফুটপাতে টাইলস বসানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাতা, নদীর তীরে তিনটি গ্যালারি, লাইটিং ও পাবলিক টয়লেট থাকায় দীর্ঘক্ষণ ধরে আড্ডা দিতে দেখা গেছে অনেককে। মানুষের ব্যাপক ভিড় থাকায় স্থায়ী ও অস্থায়ী খাবারের দোকানেও বেচা কেনা ভালো হচ্ছে।
আগন্তুকরা জানিয়েছেন, একটু প্রশান্তির জন্য নির্মল বাতাস শরীরে লাগাতে তারা ভৈরবের পাড়ে এসেছেন।
সচেতন মহল বলছেন, কেরোনা ভাইরাসকে অতি হালকাভাবেই নিয়েছে অনেকেই। তাদের কাছে মনে হয় এটা কোন ব্যাপারই না। সারা বিশ্ব কাঁপছে করোনা আতঙ্কে, খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিনোদন কেন্দ্রগুলোও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু খুলনার অতি উৎসাহী কিছু মানুষ এটাকে খুব হালকা করে দেখছে। পার্ক বন্ধ তো কি হয়েছে, ভৈরব নদের পাড় তো রয়েছে। ঘরের বাইরে তো যেতেই হবে। ব্যাপারটা এমনই তাদের কাছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) সূত্রে জানা গেছে, খুলনা মহানগরীর কোল ঘেষে ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা এখন দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র। জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ভৈরবের তীর ঘেঁষে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১৩ সালে। ২০১৬ সালের ৬ জুন সড়কটি উদ্বোধন করা হয়। এছাড়া ভৈরব নদের ৬ ও ৭ নম্বর ঘাট এলাকা নতুন করে সাজায় খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। ভৈরবের পাড়ে তীরে প্রতিরক্ষা ব্লক বসানো, ফুটপাতে টাইলস বসানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাতা, নদীর তীরে তিনটি গ্যালারি, লাইটিং ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বৈদ্যুতিক আলোসহ সকল সুযোগ সুবিধা থাকায় করোনার আতঙ্ক উপেক্ষা করে ঘাট এলাকায় মানুষের এমন সমাগম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনা শাখার সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট মমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নজরদারির অভাব। প্রশাসনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এভাবে মানুষ গণজামায়েত হচ্ছে। করোনা ভাইরাসটি থেকে রক্ষায় সচেতনতার কোনও বিকল্প নেই।
তিনজনের বেশি একসাথে যেখানে হওয়া নিষেধ সেখানে কিভাবে এত লোক এক সাথ হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলেন তিনি।
এ বিষয়ে খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম বাহার বুলবুল বলেন, বিষয়টি জানা নেই। এখনই খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৩৭ বার

[hupso]